সুস্থ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য সঠিক খাদ্য গ্রহণের জুড়ি
নেই। কিন্তু আমাদের পিছিয়ে থাকা সমাজে কুসংস্কারের অভাব নেই। এমনকি খাবারের ক্ষেত্রেও কুসংস্কারের বাহুল্য বিদ্যমান। এই
একুশ শতকে এসেও যদি এসব কুসংস্কার নিয়ে বসে থাকা কী উচিৎ। জেনে নিন খাবার সম্পর্কে
প্রচলিত এমন কিছু ধারণা যা আসলে সত্য নয়
: ১. ফার্মের ডিম ভালো নয়, দেশি ডিম ভালো: আমাদের অনেকেরই একটা ধারণা
আছে দেশি ডিম ফার্মের ডিমের চেয়ে পুষ্টিকর ও নিরাপদ। কিন্তু এটা একেবারেই ভুল
ধারণা। ফার্মের ডিম পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে এবং এই ডিমের ওজন দেশি
ডিমের তুলনায় বেশি। পুষ্টির দিক দিয়ে ফার্মের ডিমও কোনো অংশে কম না।
২. টক ফল খেলে সেলাই পেঁকে যায়: টক ফলের রসে থাকে ভিটামিন
সি। তাই সেলাই পাঁকা নয় বরং ফলের রস সেলাই শুকাতে সাহায্য করে।
৩. কলা খেলে ঠাণ্ডা বাড়ে: অনেকেই ঠাণ্ডা লাগলে কলা
খেতে চান না এই ভয়ে যে, কলা খেলে ঠাণ্ডা বেড়ে যাবে।
কিন্তু কলা খেলে ঠাণ্ডা লাগবে বা ঠাণ্ডা বাড়বে এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ঠাণ্ডা
লাগার একমাত্র কারণ জীবাণুর সংক্রমণ।
৪. কাঁচা লবণ খাওয়া ভালো না: কাঁচা আর রান্না করা লবণের
মধ্যে কোনো ফারাক নেই। লবণ কতটা খাচ্ছি সেটাই বড় ব্যাপার। মাত্রাতিরিক্ত লবণ
শরীরের পক্ষে ভালো নয়। তাই কাঁচা বা রান্না যেটাই হোক না কেন লবণ খেতে হবে পরিমিত।
৫. মিষ্টি খেলে কৃমি হয়: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং
সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললেই কৃমির সংক্রমণ ঘটে। মিষ্টি খাবারের সঙ্গে এর
কোনো সম্পর্ক নেই।
৬. কীটনাশক দেওয়া শস্য ক্ষতিকর: ধান ও গম খেতে যেসব কীটনাশক
দেওয়া হয় সেসব কীটনাশকের প্রতিক্রিয়া ধান বা গমে ২১ দিন থাকতে পারে। তারপর ব্যবহার
করা নিরাপদ। ২১ দিন পর ব্যবহারে ক্ষতির কিছু নেই।
৭. ইউরিয়া দিয়ে ভাজা মুড়ি
খারাপ: ইউরিয়া শরীরের বর্জ্য
পদার্থ। রক্তে এর একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। ক্রনিক রেনাল ফেলিওরে রক্তে এর
মাত্রা বেড়ে যায়। তাই রেনাল ফেলিওর রোগীদের এই মুড়ি খাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু সাধারণ
সুস্থ মানুষের ইউরিয়া দিয়ে ভাজা মুড়িতে কোনো ক্ষতি হবে না।
৮. চিকেনপক্স হলে মাছ-মাংস খাওয়া যাবে না: এটি পুরোপুরি ভুল ধারণা।
বরং অসুখ হলে শরীরে প্রোটিনের বেশি প্রয়োজন হয়। এই সময় মাছ-মাংস না খেলে শরীর আরো
দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই চিকেনপক্স হলে বেশি করে মাছ-মাংস খেতে হবে।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন